শনিবার, ২৭ Jun ২০২৬, ০৩:০৮ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

দায়িত্বজ্ঞানহীন কেউ যেন ক্ষমতায় না আসে : প্রধানমন্ত্রী

দায়িত্বজ্ঞানহীন কেউ যেন আগামীতে ক্ষমতায় না আসে সে জন্য ভোটদানে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ‘আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২২’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

এর আগে সকালে সাভার সেনানিবাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনী দেশের যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে।’ সেনাবাহিনীর সদস্যরা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতির পিতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে পেশাগত দক্ষতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার মাধ্যমে আন্তরিকভাবে দেশের সেবা করবেন বলেও এ সময় আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অনুষ্ঠানে ৫০টি মুজিব কিল্লা, ৮০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ও ২৫টি জেলা ত্রাণ গুদামন্ডকামন্ডদুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্যকেন্দ্রও উদ্বোধন করেন।

১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীন মনোভাবের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ ঘূর্ণিঝড়ের পর ওই দলটির প্রধান বলেছিলেন, যত লোক মারা যাওয়ার কথা ছিল তত লোক মারা যায় নাই। আবার ওরকম কেউ যেন ক্ষমতায় না আসে যে, যত মানুষ মারা যাওয়ার কথা ছিল তত মানুষ মরে নাই বলে দায়-দায়িত্বহীনতার পরিচয় কেউ যেন না দেয় ভবিষ্যতে, সে জন্যও দেশবাসীকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘সেই ঘূর্ণিঝড়ের পর সংসদে দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, যত মানুষ মরার কথা ছিল তত মানুষ মরে নাই। আমি তখন তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, আর কত মানুষ মারা গেলে আপনার মনে হবে যে তত মানুষ মারা গেছে?’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেই সময় বিএনপি সরকারের দায়িত্বে অবহেলার কারণে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। দেশের মানুষ যে মরছে সেদিকে তাদের কোনো ভ্রƒক্ষেপই ছিল না। অথচ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল প্রায় দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু এবং ঘরবাড়ি, গবাদিপশু, ক্ষেতের ফসল, এমনকি চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর জাহাজ এবং বিমানবাহিনীর বিমান পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ তখন বিরোধী দলে থাকলেও সেসময় দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ত্রাণ নিয়ে ছুটে যায়। পরবর্তী সময়ে সরকারে এসে সেই ঘূর্ণিদুর্গতদের জন্য খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্প তৈরি করে তাদের পুনর্বাসনসহ সেই সময় কুতুবদিয়া থেকে ছোট্ট একটি ছেলেকে ঢাকায় এনে পুনর্বাসন করার একটি ঘটনাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন তিনি। সরকারপ্রধান সারা দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় তার সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অনন্য কৃতিত্বের দাবিদার স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে ৮৩ জন স্বেচ্ছাসেবককে ১০ হাজার টাকা, সনদ এবং মেডেল দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী তাদের মধ্যে নির্বাচিত দুজন জয়শ্রী রানী দাস ও মো. জসিম উদ্দিনের হাতে পদক তুলে দেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল হাসান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ওপর একটি ভিডিও চিত্রও অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয়।

এদিকে সকালে সাভার সেনানিবাসে সিএমপি সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে সদর দপ্তর ৭১ মেকানাইজড ব্রিগেড, ১৫ ও ৪০ ইস্ট বেঙ্গল (মেকানাইজড) এবং ৯ ও ১১ বীর (মেকানাইজড)-এর পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস সেনাবাহিনীর সব সদস্য মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জাতির পিতার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা ও পরিপূর্ণ অনুগত থেকে কঠোর অনুশীলন, পেশাগত দক্ষতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার সমন্বয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের সেবায় কাজ করে যাবেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আমরা সরকার গঠন করি। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরি। সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করি। ১৯৯৮ সালে “ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ” এবং “মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি”, ১৯৯৯ সালে “বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং” এবং “আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ” প্রতিষ্ঠা করি।’

তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে পুনরায় সরকার গঠনের পর প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুগোপযোগী সামরিক বাহিনী গঠনের লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করছি। আমরা “ফোর্সেস গোল-২০৩০” বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন করছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০১৬ সালে “বাংলাদেশ পিস বিল্ডিং সেন্টার” প্রতিষ্ঠা এবং জাতির পিতা প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতিকে যুগোপযোগী করে “জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি, ২০১৮” প্রণয়ন করেছি। এ ছাড়া অ্যারোস্পেস ও এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং সিএমএইচগুলোকে অত্যাধুনিক হাসপাতালে রূপান্তরিত করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদাতিক ব্রিগেড ও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পদাতিক ব্যাটালিয়নকে মেকানাইজড হিসেবে রূপান্তরিত করা হয়েছে। আজ তাদের বহু প্রতীক্ষিত পতাকা উত্তোলন করা হলো। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে মেকানাইজড ইউনিট সংযোজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিবাদন জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি জাতীয় নিরাপত্তা ও ঝুঁকি মোকাবিলায় এই মেকানাইজড ইউনিটগুলোর সংযোজন এক নতুন মাত্রা যোগ করবে ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com